বাঙালির চেতনায় প্রাণ এনেছিলেন বঙ্গবন্ধু
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর আলোকে বাংলাদেশ। ‘বঙ্গবন্ধু’-র মতো নেতা ছাড়া বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সাহসী চেতনার উন্মেষ হত না। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই কণ্ঠস্বরে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার যুদ্ধে সামিল করেছিল। মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেছিলেন তাঁর চেতনায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সেই যুদ্ধ এনেছিল গৌরবময় বিজয়।
সেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের এই সংযোগ বাংলাদেশ ও বাঙালির কাছে এক ভিন্ন অনুভূতি। বাংলাদেশে ঐতিহ্যের এই দিশা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ছড়াবে অগ্নিশিখার আলো। ১৯৬৮-৬৯ সাল। যুবসমাজের নেতৃত্বে কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের স্লোগানে মুখরিত হয়। ‘মুজিব এসেছে, বাঙালি জেগেছে’ স্লোগানে জেগে উঠে বাঙালি। বাঙালির চেতনায় প্রাণ এনেছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার স্বপ্নে মানুষকে দিশা দেখিয়ে বাঙালিকে লড়াকু জাতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি।
ওই দেশের স্বাধীনতার পরে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশ পুনর্গঠনের কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। সেই সময় যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক কাঠামো ভেঙে যায়। স্বজনহারানো মানুষগুলির চোখে জল ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে তিনি অস্ত্র জমা নিয়েছেন। যুদ্ধ-পীড়িত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যের ব্যবস্থা করেছিলেন। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য রাস্তাঘাট, সেতু ও রেললাইন পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। শিক্ষা-ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন।
গঠিত হয়েছিল পরিকল্পনা কমিশনও। ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনাও মকুব করেছিলেন। চালু করা হয় পল্লি বিদ্যুৎ। শিল্প-কারখানা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় পরিচালনার ব্যবস্থাও করেছিলেন। নতুন দেশের যাত্রাপথ শুরুর পরিকল্পনা করেছিলেন দক্ষ হাতে। উল্লেখ করা যায়, ১৯৭২ সালের মধ্যেই প্রণীত হয়েছিল সংবিধান। দেশে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা যার মূল নীতি। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম দিক ছিল। ১৯৪৬ সালের কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-বিধ্বস্ত অঞ্চলে তিনি রিলিফের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আবেদনও ছিল।
খবরটি পড়ে ভাল লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

